Showing posts with label দৈনিক. Show all posts
Showing posts with label দৈনিক. Show all posts

Monday, 6 August 2018

এসো প্রেম---সুপ্রিয়া চক্রবর্ত্তী




তুমি এসো,এসো প্রেম!
নীল আকাশের পথে এসো
কাজল কালো মেঘে এসো
বৃষ্টি নুপুর ধারায় এসো
মনের গভীর দ্বারে এসো
আমার মন উপবনে এসো
আমার গোপন হৃদয় এসো
কৃষ্ণচূড়ার লালে এসো
ফাগুন সমীরণে এসো
ভালোবাসার গানে এসো
আলো আসার প্রাণে এসো
পূর্ণিমা জোছনায় এসো
উছল প্রাণের দোলায় এসো
দুঃখ সাগর জলে এসো
আনন্দ হিল্লোলে এসো
শ্যামল বাঁশির সুরে এসো
অন্তর আকুলে এসো
গোপন হৃদয় কোনে এসো
হঠাৎ ঝড়ের সাথে এসো
সন্ধ্যা তারার পথে এসো
জুঁই ,মালতীর গন্ধে এসো
কাজল কালো চোখে এসো
ভালোবাসায় মেখে এসো
আমার তরে,জীবন ভরে।


Friday, 27 July 2018

হাম্বা---কবি আর্যতীর্থ


ও মেয়ে বরং হাম্বা ডাকো, মানুষ বলে ভেবো নাকো,
বড্ড ফ্যাচাং এখন নারী হলে,
তার চাইতে হও না গরু, যাপন হবে খুব সুচারু,
মানও পাবে মাতা টাতা বলে।
নারী হলে বড়ই বিপদ তক্কে থাকে হরেক দ্বিপদ,
চতুষ্পদের শাসন চলে দেশে
দাওনা যতই শিংয়ের গুঁতো করবে আদর লোক তবু তো,
মারবে মানুষ তোমায় ভালোবেসে।
নারী পাচার নয়তো হ্যাপার, একটু শুধু টাকার ব্যাপার,
ওপরওয়ালার প্রণামীতেই কাজ,
গরু পাচার করতে গেলে যাবজ্জীবন ঢুকবে জেলে,
কে যে দামী সন্দেহ নেই আজ।
বাঁচাও বাঁচাও মেয়ে চেঁচালে, কে যাবে ভাই সেই ক্যাঁচালে,
নির্ভাবনায় ভোগ করে ধর্ষক
গোরু নিয়ে কেউ যদি যায়, দেশের মানুষ ধরে পেটায়,
পুলিশও ফাউ ফ্যালফ্যাল দর্শক।
কেউ জানেনা কি কারণে, গাইসন্ত্রাস নিবারণে,
রাজার সভা জাবর কাটে খালি,
ঘরের মেয়েরা গেলে দূরে আতংক খায় কুরে কুরে
কার থাবাতে ঝরবে গেরস্থালি।
অনন্তকাল মোম মিছিলে মেলাচ্ছি পা সবাই মিলে,
কাজের কাজটি সত্যি কিছু হচ্ছে?
হক কথাটি গেছি বুঝে, হওয়ার মতন নেই কিছু যে,
আইন সবই ঠান্ডাঘরে পচছে।
গোরুর ছুতোয় অনন্ত ছুট, ধোলাই খুন বা সবকিছু লুঠ
গো নামটিও সর্বপাপহন্তা,
এসো নারী এবার তবে, ওঠো ডেকে হাম্বা রবে,
আমার দেশে ওটাই বাঁচার পন্থা।

আসল নকল --- - স্বপন গায়েন


মাটির বুকে গন্ধ আছে মাটির বুকে আলো
মুগ্ধ চোখে ভোর বাতাসে দূর হবেকী কালো!
মাটির বুকে ফলাই ফসল নানা রকম সবজি
উচ্ছে বেগুন পটল মুলো খাবো ডুবিয়ে কব্জি!
নিরামিষ খাবার সবচেয়ে ভাল খাওনা চেটেপুটে
ভাগাড় মাংস খেয়ে খেয়ে জীবন গেল ঘেঁটে!
শরীর জুড়ে রোগ ভর্তি প্রেসার দু’শো পার
ব্লাড সুগারে ত্রাহি ত্রাহি বাঁচবো নাকো আর!
ডিমও নাকি হচ্ছে প্লাস্টিক জীবন ভেজালে ভরা
হচ্ছে ভেজাল প্যাকেট দুধে সারবে কবে জরা!
কোনটা আসল কোনটা নকল কে আসলে সাধু
ভেজাল মেশালে কোটি টাকা ওতেই বড্ড মধু!
ফলটা খাও বেশি করে আঙুর আপেল কলা
আপেলে আবার মোম লাগিয়ে চোখে ঢুলির মালা!
মিষ্টি খেলে হবে সুগার তবুও খাও মিষ্টি
পচা ছানায় করছে মিষ্টি একি অনাসৃষ্টি!
দেশটা কবে হবে ভাল পদে পদে বিপদ
মরবে কবে দালালচক্র কবে বিদায় আপদ!


গর্ভবতী বৃষ্টি ----অমল কুমার বর্মন


ওগো গর্ভবতী বৃষ্টি,বুকে তোমার বৃষ্টির ছলাকলা,
ভাসাও জীবনের হামাগুড়িতে ভেলা,
শ্রাবণের ধারায় বেজে উঠে মুক্তোর খেলা।
যাও বৃষ্টির শিরায় শিরায় কদম ফুলের ছন্দতারা হাসি,
যেন তুমি সাত রাজার ধন অনুক্ষণ বলো 'ভালোবাসি',
শূন্যতার ঢেউয়ে নিঃশেষিত হলে চঞ্চল হাওয়ায় রাশি রাশি।
মরা জোছনায় শ্মশানের একমুঠো মাটিতে, 
যেন আকুল ভালোবাসার কবিরা বসেছেন শীতল পাটিতে,
ছন্দের জলে তুলসী পাতা তুলে পূজার ছলে হাসিতে।
গর্ভবতী সতী নারী যেন পূজার অর্ঘ্যে পেয়েছে এক স্বর্গ,
যেন বৃষ্টি তার ভালোবাসার মহান দুর্গ,
ফুলের ডালিতে হাসির প্রজ্ঞায় ছড়ালে পূর্ণিমা 'উৎসর্গ'!


কর্তব্যের দায়---শিপ্রা দে


মানুষ জন্ম নিয়ে খালি 
বাঁচার নাম নয় একা
সবার তরে সবাই আছি
 
দায়,দায়িত্ব রাখা।
কর্তব্যের দায় জীবন ভর 
বোঝা বহন করি
 
যাতাকলে ঘুণে পিঁষে
 
সারাজীবন মরি।
শেষ জীবনে কেউ চেনে না 
সবই গেল বৃথা
রিক্ত নির্জন বসে থাকি
 
আপনজনে নেই কথা।
গোধূলিতে অস্তমিত 
সূর্য গেলে পটে
 
কেউ নেই পাশে তখন
 
বেদনার বালুতটে।
অশ্রু সিক্ত এক অব্যক্ত
যন্ত্রণা সবশেষে
 
মানুষ আমি মানুষ হয়ে
 
রইবো তবু পাশে।

কবিতা-মা--মধুরিমা মুখোপাধ্যায়


----------------------------

জন্মে প্রথম ডাক-মা,
মুখ দেখে বোঝে ক্ষুধা-মা,
দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধরে-মা,
সহ্য করে জন্মযন্ত্রনা-মা,
জন্মের প্রথম ছ-মাস-
খাদ্য পানীয় জোগান-সেই মা।
সন্তানের জয়ে প্রথম আনন্দাশ্রু-মা,
সন্তানের কষ্টে প্রথম কষ্ট-মা,
সন্তানের রোগে রাতজাগা-সে মা,
সন্তানের ঘুম-পাড়ানি গান-মা।
কুমারী মা হয় তবু কুমার পিতা নয়,
মায়ের আঁচল মধুর এমন-
থাকেনা কোনও ভয়,
মমতামাখা মিষ্টি গন্ধ-
সকল ভয় করে জয়।
মা মানে মনের মধ্যে-
অদ্ভুত এক ভরসা,
মায়ের রূপ সবচেয়ে মধুর-
হোক কালো বা ফর্সা।
মা মানে আব্দার আর অল্প প্রশ্রয়-
বাবার আদরে মেশানো বেশী-
শাসনের ভয়।
মায়ের গায়ের গন্ধ লাগে-
এক্কেবারে আলাদা।
 
মনের কথা বলে হাল্কা হতে
দুনিয়ার সবচেয়ে বিশ্বাসী -
মায়ের কাছেই সেই সুবিধা।
কষ্টে মুখে আসে আগেই-
ওমা বলে ডাক,
মায়ের মধুর রক্তবন্ধন-
সন্তানের সাথে-
নেইত এতে কোনও ফাঁক।
মা মানে ভালোবাসা,
মা মানে বিশ্বাস,
মায়ের দয়ায় নিয়েছি-
পৃথিবীতে প্রথম নিঃশ্বাস ।
হিন্দু দেবী সম্মান দি-
মা বলে মোরা,
কুমারী মা মেরীকে-
মানে সকল গোরা।
পিতৃপরিচয়হীন সত্যকামের-
মা জাবালা বিখ্যাতা।
 
মায়ের কোন জাত হয়না-
সাধারন কি প্রখ্যাতা।
মা মরা শিশু বড্ড ভাগ্যহীন,
অধুনা যুগে মা অন্ন ও জোগায়-
বাবা হলে ও কর্মহীন ।
শিশু কোলে চা শ্রমিক মা,
কখনও পাইলট মা,
আকাশ থেকে জলে-
সর্বক্ষেত্রে আজ মায়ের মহিমা।
মা ডাকের মত মিষ্টি ডাক-
জগতে নেই,
কুসন্তান যদিও হয়-
কুমাতার প্রায় দেখা নেই।
মাতৃভক্তিতে বিদ্যাসাগর খ্যাত-
সারদা মা-জগতের মা।
 
সেবাধর্মে নোবেল জয়ী-
মাদার-টেরিজা-
সর্বজনের মা।
মা ডাক মধুর এমন-
ছেলের বউকে ডাকি বৌমা।
 
কাকীমা,ঠাকুমা,দিদিমা,আম্মা-
সবার শেষে মা।
 
ওমা তোমার নেইকো তুলনা।