Monday, 6 August 2018

শুভদীপ পাপলু এর একগুছ কবিতা




___________________________________________________________
১। তোমার লজ্জা রুখি হে সঞ্চালিকা
____________________________________________________________

তোমার লজ্জা রুখি নিরুৎসাহ উদ্বায়ী শোকে।
গর্ভগৃহে যাও,নমঃ শিবায়।মৌণ ভৌগলিকে
বেতার বার্তা এড়িয়ে চলি।বিদ্ধ করি নিরন্ন ভুবন।
তোমার লজ্জা রুখি...প্রতিলিপি...ভূমিষ্ঠ নারায়ন।

তোমার লজ্জা রুখি...প্রশাসনিক কর্তব্যে রোদ্দুর।
সামুদ্রিক ছদ্মবেশের ভ্রুণে-তে,একলা বেদনাবিধুর
চোখে কড়িবরগার অনার্য পলেস্তারা খসে।
তোমার লজ্জা রুখি...নামে দুর্নামে ভ্রান্ত কারাবাসে

তোমার লজ্জা রুখি...কোমলগান্ধারে উহ্য দেবতা
প্রজাতির উদ্দেশ্য সফলে,পৌরাণিক লোকদুশ্চিন্তা
বন্দী করে নিরুদ্দেশ,দন্ড দেয় নিশ্চিত মর্ত্যলোক।
তোমার লজ্জা রুখি,এ দহন সৃষ্টিকর্তার-প্রতিপালক

তোমার লজ্জা রুখি,প্রতিবিম্বে ভাসে অক্ষরনৌকা--
তোমার লজ্জা রুখি,প্রকাশিত হও,হে সঞ্চালিকা।
____________________________________________________________
২। বার্ষিকগতি
____________________________________________________________

এত স্বপ্নের মন্দাক্রান্তা,ঘুম-প্রবাসী ধন্বন্তরি
যুঁই-চাপা-মোগরা-চন্দনে শায়িত অন্ধডায়েরি--
হয়ে মধ্যবর্তী,পিছলে যাব গৌড়িয় মন্বন্তরে
অক্ষত আশঙ্কা,বলনা কোথায়?মন মাঝি রে...

ভাগ্যবতী ফিরলে,সাম্রাজ্যবাদ ঘুচিয়ে দেব
গলিত সূত্রে অগভীর পুণ্যস্নান করবো--
শ্যাম-রাইয়ের হরিরলুট দেব বুভুক্ষে,
খোলো রে আবরণ!সমাধান হোক পক্ষে-বিপক্ষে।

এত হুমকি,এত উষ্ণতা,বেমানান বোহেমিয়ায়
সূর্যে চকচক বালিয়াড়ি,তবু স্বাদ নেই এ কান্নায়--
অন্ধকারহীন সে অধিকার,অভ্যাসে সব ছাড়খাড়
কেউ মরবে না,শুধু নিতান্তই অস্বীকার।

স্বেচ্ছামৃত্যু পেলে,সেই একমুঠো সর্ষে আনবে তো?
নচেৎ,এ ভোরের আরতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ।
____________________________________________________________
৩। পরিব্রাজক
____________________________________________________________
না,এ দগ্ধ পরিবেশে,স্নায়ুপথ ভরাট
না,এ ধমণী উদভ্রান্ত,ফাইনাল পরীক্ষা'তে।
না,এ অসুস্থ গল্পে,ঘটনা বিভ্রাট...
ভারতীয় কেউ নয়,ঘোষিত মহাভারতে।

হ্যাঁ,এ দুনিয়ায়,যাদের ঘুমে ঢেকেছে চোখ
হ্যাঁ,এ কান্না কাঙাল,দুর্দশা বেঁচে বেঁচে
উচ্চারনে থাকা জীবন্ত নারায়ন শ্লোক
তাদের কারাদন্ড দেয়,নাগরিক রবীন্দ্র মঞ্চে।

না,সমস্ত জনপদ,সতীদাহ সাজে লজ্জিত।
দেহ সুগঠিত হয়,ভাইরাস ও মড়কে--
কেউ বাকি নেই,যারা ডাল-ভাত এনে দিত,
না,আমার কোনও তাগিদ নেই,অস্বস্তিসূচকে।

যা পারো ছিনিয়ে নাও,নিশ্চিন্তে।আপাতত,
তুমিই বিধাতা,যে-ক্ষমতার নিচে পদানত।

____________________________________________________________
৪। পাঞ্চজন্য
____________________________________________________________

বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি'তবু,দৃষ্টিবলয় কালো।
বইছে তুঙ্গভদ্রা,তাঁর মানবী আকৃতি'টা--
দুনিয়া দখলের প্রতিলিপি,ভিন্নার্থে হিমশৈল,
যেখানে নিষিদ্ধপল্লী গড়ে বিশুদ্ধ ভারতমাতা।

'ধর্মং শরণং গচ্ছামি'প্রভাবশালী হাতিয়ারে,
বিপরীত সেনানী'র চক্রান্তে বিংশ শতকের সর্বহারা
বৃষ্টির ওজন ছাপিয়ে পৌঁছে যায় শ্রী নবকুমারে,
তবুও নিরুপায় এ সৎকার,নিঃস্ব পঞ্চভূত দ্বারা।

'সংঘং শরণং গচ্ছামি'উত্থিত দশ হাত।
পরান্নভোজী,কৃপাপ্রার্থী-তৃতীয় পুরুষেরা--
জ্যামিতিক রামধনু'র দেহে জলীয় ধারাপাত,
যেন;চতুর্ভুজে মিলিত হওয়া আকাশপ্রেমিকা'রা।

পন্থী আমি,পন্থাহীন;অথচ নির্বাসিত জড়তা--
যাকে তুমি কবর ভাব,আসলে সে নীরব হীনমন্যতা

____________________________________________________________
৫। শরিফ
____________________________________________________________

উপোসে এনে দাও রোজা।
মিলে যাক ধর্মীয় অচ্ছুৎ।
দেখেছি,হেঁটে যেতে সোজা-
টিকিধারী মৌলবি দূত।

আমার এই দেহ,অবধি
ফেজটুপি,পৈতে নিখুঁত...
ওরা-আমরা সুবিধেবাদী।
রায়টে রাত ভারি;অদ্ভুত।

বলে দাও তুমি,কিভাবে--
জনগন কাড়বে মুকুট।
সন্ধ্যে'য়-'তুমি রবে নীরবে'
নমাজ বা আহ্নিক,অস্ফুট।

মানুষ'কে ফুল দিয়ে ঢাকি
'দিকের জিন,'দিকের ভূত...
চিতা বা কবর সেজে রাখি,
হে আল্লাহ, হে অবধূত!

____________________________________________________________
৬। সুহানা সফর
____________________________________________________________

সেই গল্পে তুমি আসোনি।আসলে ভাল করতে।
জাকির হুসেন সপ্তম সুরে...সুর'টা চেনা চেনা
স্বেচ্ছামৃত্যু হয়ে গেছে সই।তবু,মাছি তাড়াতে
যমুনা নয়;আমি পেতে চাই কালিয়নাগের ফণা।

এ পৃথিবী'ই স্বর্গ মর্ত্য।মাথার উপর শ্মশান।
আদি গঙ্গা প্রবহমান কালো মানুষের স্রোতে।
তবুও দাসত্বে ধন্য,কুম্ভ মেলার স্নান...
আমার বিপক্ষ গোষ্ঠী,হেরে গেছে হাতে হাতে।

কিন্তু,আমি জিততে পারিনি।ইচ্ছেটুকুও নেই।
চাইলে তুমি ভাবতেই পারো,কাপুরুষ বনবাসী,
আক্ষেপহীন; ভুলে যেতে পারো আগের সব ব্যথাই
অনুশোচনায় বিদ্ধ। তবু, আলগা কোরো না ফাঁসি।

কৃষ্ণের শতনাম সূচি,আমার বর্ণমালায়
রাজাকেও রোজ মুকুট খুলেই ঘুমোতে যেতে হয়।
____________________________________________________________
৭। পেনাল-কোড
____________________________________________________________

সুতপুত্র কর্ণ ছিল দানের আখ্যান।
ওপেনহেইমারের কোষ বারুদে ভিয়ানো।
জল কবিতায় লেখা ভিক্টোরিয়া'র স্নান।
ছেদ যতি চিহ্নে-পারলে ওমর খৈয়াম শুনিও।

বাতাস বড় হাড়কিপটে;বয়ে চলে একা একা।
রাম-রাবণের সংগ্রাম তো উপনিবেশের মিথ্।
পূব আকাশের সূর্য নয়,সূর্য সেন একরোখা।
গত ভূ-কম্পে নড়ে গ্যাছে,নস্ট্যালজিয়া'র ভিত।

নির্লজ্জ রাত ভিনগ্রহে,সাদা কাপড়ে ঢেকে।
এই দুনিয়ায় ঘন ঘন,বিধবা চাঁদ জন্মায়।
তবু কেন থাকবে বলেই কলঙ্ক লেগে থাকে?
আমার ঠাকুর ঠুঁটো বলেই কি,মানুষেরা ভোগ দেয়?

যে মায়ের গর্ভ ছিঁড়ে;পুরুষ-তুমি হচ্ছো আজ পিতা
আমি বলছি,কেউ পিতা নয়,সব ছেঁদা কেন্দ্রিকতা।

____________________________________________________________
৮। ইতি গজঃ
____________________________________________________________
মনপ্রবাসে ক্লান্ত দীঘি,চালতা রং'য়ে কোমল
হিংসুটে রোদ চোখ রাঙাচ্ছে।বা সাদা পাতার দিস্তা
সেলাইয়ের মতো এফোঁড়-ওফোঁড়,বাঁ চোখের জল
একাই ছিলো,কারন-আমি সে'সময়,বেকার ব্যস্ততা

খানিক,রোজগার জুটতো,অকারনে তুই কাঁদতিস
না বুঝে-শুনে,জাপটে ধরতিস যত্রতত্র,বেমক্কা--
তাও আমাদের গলা মেলানো হলো না,বয়স বত্রিশ
উপরন্তু শখের এইডস্ ;অণুচক্রিকা'র তালে হাক্কা!

এ কি স্পর্ধা না অফ্ ফর্ম?আচমকাই নখের তেজে
তাও হেসেছি,ভেবেছি তোর নামে বেড়াল পুষবো,
যার স্থির ডাক'টি,মেয়ে হবে,পুরনো ক্লিভেজে-
,আমি নষ্ট হবার লোভে,দেবী'কে জ্বর ভোগ দেবো

প্রশ্রয়ের বালাই নেই।আস্কারা এখানে জোনাকি...
বিশ্বাস ক্ষয়ে ক্ষয়ে আতর।বাথরুম আস্তিন গুটোল,
'কিস্তি বাকি...চওড়া ছাদ...স্টেফি গ্রাফ',এসব কি?
তুমি-পুরো ঠিক ধরেছো,চা খাবার ইচ্ছে হচ্ছিলো।

____________________________________________________________
৯। মেহেরবান
____________________________________________________________

সরল না,ধার্মিক-দূর থেকে বুঝে উঠতে পারিনি।
যাদবকুল যেহেতু,তাই ভাঁজ বেশি,খোলা কপালে...
কেমন আছো?মোটামুটি,একটু বোধহয় কম চিনি
গড়নে,লিকার চা-এ,বা নাগরিক পঞ্জি'র গরমিলে।

সরল না,যান্ত্রিক-বৃষ্টি'র চে' স্মৃতি'র ওজন কিছু কম
এককামরা ময়ূরপুচ্ছ,পংক্তি বাদ পড়েছে কবিতায়
শিকড় ছেড়ে হয়রানি,সম্পর্কে ডাহা হেরেছে শবনম
তাও,সবই কর্মের কাঠগড়া,খুব মেঘ করেছে দাঙ্গায়

যতোদিন দোষ দিয়ে গেছ ওডিসির বিভিন্ন অধ্যায়ে
--হরফবিকৃতি,সে রোদের হাসনুহানা

জেনে-বুঝেও,সর্বনাশের ভিতরে শুধু তোমাকে চাই
চুল সরিয়ে, বিপর্যয়; এ শহর স্বয়ং উদ্বাস্তু বিছানা

জালনোটের মতো হাতে হাতে লেখা নিঃস্ব বিকর্ষণ সিরাজ,তুমি তো কিস্তিমাত,যে শরীরে অন্যের খুন-

সে হিমোগ্লোবিনে সম্পর্ক গোপন। বাকি,জলবায়ুতে
ধরা দিয়েছে পূর্বপুরুষের ঘুণ...

যে সাজালো আকাশকরণিক,সে ফিরে পেল চশমা
তোমার শক্তি যমজ হোক; ক্ষমা ও মানববোমা...

____________________________________________________________



No comments:

Post a Comment